আমি হবো ধ্বংসতারা
বইঃ" আমি হবো ধ্বংসতারা"
লেখকঃ তানজিম রহমান
বইয়ের ধরনঃ থ্রিলার উপন্যাস
গর্ডিয়ান গিঁটের কথা শুনেছেন কখনও ?
গার্ডিয়ান গিট সম্পর্কে একটি মজার গল্প রয়েছে। এটা এমন এক গিট, যা খুলতে গেলে গোলকধাঁধার মতো আরও গিট লেগে যায়। পৃথিবীর বড় বড় যোদ্ধা, সেনা,শক্তিশালী বীররাও খুলতে পারেনি এই গিট। কিন্তু আলেকজান্ডার ঘটিয়েছিলেন এক বিস্ময়! তিনি বুঝেছিলেন এই গিট অন্য সব গিট থেকে আলাদা। তাই গিট খুলতে তিনি ব্যবহার করেছিলেন তার তরবারি। তরবারির আঘাতে কেটে যায় ধাঁধাময় গর্ডিয়ান গিঁট!!বলা হয়েছিলো যে এই রহস্যময় গিট খুলতে পারবেন তার হাতের মুঠোয় একসময় হবে সমগ্র সমগ্র পৃথিবী।
আজ যে বইটির কথা বলবো সেটা গর্ডিয়ান গিঁটের মতোই চক্রাকার গোলকধাঁধা । অনেকটা কাটা দিয়ে কাটা তোলার মতো!
এখন আসা যাক আমাদের গল্পে!
তানজিম রহমানের "আমি হবো ধ্বংসতারা " বইয়ে লেখক কয়েকটি অধ্যায়ে ভাগ করে তুলে ধরেছেন কয়েকটি চোরের গল্প এবং তাদের সাইকোলজিক্যাল বিশ্বাস!
৩৮২ পৃষ্ঠা থ্রিলারের মধ্যে কেবল কয়েকটা চোরের গল্প! অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে চোরদের চুরি করার বিষয়টি ছিলো ব্যতিক্রমী। তারা কেউ সাধারণ চোর নয়। তারা চুরি করতেন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি! অদ্ভুত না বিষয়টা! মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও চুরি হয়ে যায়!
কাহিনির সূত্রপাত এই দৃষ্টিভঙ্গি চুরি থেকেই। সরকারের এক গোপন গবেষণাগার ৩১ নম্বর বাড়িতে রয়েছে সবচেয়ে দামী আর দুর্লভ দৃষ্টিভঙ্গি, যা পেলে হওয়া যাবে সবচেয়ে সুখী মানুষ! তাই সকল দৃষ্টিভঙ্গি চোরদের প্রধান লক্ষ্য সরকারের দুর্বোধ্য পাহারা বেধ করে সেই মহামূল্যবান দৃষ্টভঙ্গি চুরি! শেষ পর্যন্ত চুরি হয় এই দৃষ্টিভঙ্গি এবং একজন দৃষ্টিভঙ্গি চোর থেকে আরেকজন চোরের হাতে চলতে থাকে হাতবদল আর খুন! সেই সাথে চোরদের চুরি করার সাইকোলজিক্যাল বিশ্বাস! প্রত্যেকটা কঠিনের ভিতর থাকে এক কোমল ছাপ! আর এখানে পাওয়া যাবে সেই চোরদের অপরাধ জগতে পা দেওয়ার করুন বাস্তবতা এবং তাদের সাইকোলজিক্যাল দৃষ্টিকোণ এবং চিন্তাধারা! প্রত্যেক অপরাধীরই অপরাধ করার একটা নিজস্ব মোটিভ থাকে। এই বইতে আমরা অনেকটা সেই মোটিভেরই ধারণা পাই কিছু।
গল্পে আরেকটি বিষয় ফুটে উঠেছে সেটা হচ্ছে - সিঙ্গুলার আর জৈবিকদের যুদ্ধ এবং বিশ্বাস। দুই দলের বিশ্বাস মানুষ একসময় পৃথিবীর সাথে তাল মেলাতে পারবে না। কিন্তু তাদের বিশ্বাসের পার্থক্য হচ্ছে জৈবিকরা বিশ্বাস রাখে প্রকৃতির উপর তারা প্রকৃতি এবং জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে মানুষের এবং প্রকৃতির মধ্যে পরিবর্তন করে নিজেদের ক্ষমতায় রাখতে চায় পৃথিবী।অন্যদিকে সিঙ্গুলাররা বিশ্বাস করে যন্ত্রে। তারা নিজেদের শরীরের অংশ প্রতিস্থাপিত করে যন্ত্রাংশ দিয়ে এবং কম্পিউটার ব্যবহার করে আধুনিকতার মাধ্যমে দখল নিতে চায় পৃথিবী আর মহাবিশ্বের! আর তার জন্যই এই যুদ্ধগুলো ছিলো বিধ্বংসী! বর্বর!
সিঙ্গুলারদের নেতা পাটের আর জৈবিকদের নেতা নুনোস।তাদের অপরাধের নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায় সরকার আর পুলিশ! তার সূত্র ধরেই সৃষ্টি টেক্সট্রাম! কি উদ্দেশ্য সরকারের এই টেক্সট্রাম গঠনের? তারা কি দৃষ্টিভঙ্গী চুরি প্রতিহত করতে পারবে? নাকি এর মধ্যে রয়েছে গর্ডিয়ান গিঁটের মধ্যে ধাঁধার কোনো বিষয়? হ্যা, টেক্সট্রাম রহস্যভাবে কাটা দিয়ে কাটা তোলার মতো করে সৃষ্টি করে এক রহস্য সমাধান যা চমকে দিবে সবার চিন্তাকে!মাঝখানে চক্রাকারে চলতে থাকে গুজবের কিছু বিধ্বংসী থ্রিলার সিরিজ! তাহলে কি ছিলো শেষাবধি সমাধান আর কিইবা ঘটেছিলো সেই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে? জানতে হলে পড়তে হবে!
@নাজমুন নাহার

কোন মন্তব্য নেই
মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।