মাটি-ঘেঁষা মানুষ
বই: মাটি-ঘেঁষা মানুষ
লেখক: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ধরণ: উপন্যাস
# "মাটি-ঘেঁষা
মানুষ" মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অসম্পূর্ণ উপন্যাস। এটি সম্পূর্ণ
করেছেন সুধীরঞ্জন মুখোপাধ্যায়। সুধীরঞ্জন মুখোপাধ্যায় স্বীকার করে নিয়েছেন
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসম্পূর্ণ উপন্যাস সম্পূর্ণ করা বর্তমান কালের কোন
লেখকের পক্ষে শুধু দুঃসাধ্য নয়-হয়তো একেবারেই অসম্ভব। সম্পূর্ণ করা
উপন্যাসটি নিখুঁত করার চেষ্টা থাকলে তা পুরোপুরি সফল হয়ে উঠে নি। শেষের
দিকে এসে অনেকটা খাপছাড়া হয়ে গেছে।
এ
উপন্যাসে এক সাধারণ চাষীর মেয়ে অসাধারণ কর্মের কথা বলা হয়েছে। উপন্যাসের
শুরুতেই সাপে কাটা এক অপরিচিত যুবক গোবিন্দকে বাঁচায় চাষীর মেয়ে রেবতী।
গোবিন্দ চাষীর ছেলে হয়েও কাজ করত কলে। তারপরে শুরু হয় রেবতীর নিন্দা আর
প্রশংসা। প্রশংসার চাপে এক সময় চাপা পড়ে নিন্দা।রেবতীর খরব প্রকাশিত হয়
কাগজে । তাকে নিয়ে সভাও করা হয়। চাষাদের কষ্ট , তাদের অধিকার আদায়ের
সংগ্রাম চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করা হয়। চাষার মেয়ে সবার নজরে পড়ে। বখাটেরাও
খাতির জমাতে চায় তার সাথে। প্রভাবশালীদের নজরও পড়ে রেবতীর উপর। চাষীদের
অধিকার আদায়ের সংগ্রামে চালানো হয় গুলি। মেয়েসহ মারা যার অনেকেই। আন্দোলনের
যাওয়ার অস্থির হয়ে উঠে রেবতী।
রেবতীর পরিবার এসকল চাপ সহ্য করতে না পেরে তাকে পাঠিয়ে দেয় অন্য গ্রামে মামার বাসায়। প্রায় সমবয়সী মামীর সাথে গড়ে উঠে সখ্যতা। খবরের কাগজের ফলে এ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে রেবতীর খরব। আশাপাশের মানুষ দেখতে আসে তাকে। মামা-মামীর কড়া শাসনের মধ্যে থাকে রেবতী। হঠাৎ বন্যা হানা দেয় গ্রামে। বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির ফলে বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামকে দেয় ভাসিয়ে। গরিব চাষীর অবস্থা করুণ হতে থাকে। অসহায় চাষীর বিবরণ অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন মানিক বাবু।
দুর্যোগপূর্ণ বন্যার মধ্যে রেবতীর খরব নিতে আসে গোবিন্দ। তাদের বিয়েও ঠিক হয়। গোবিন্দ চলে যায় রেবতীর বাবা-ভাইকে খরব দিতে। কিন্তু বিয়ের দিন গোবিন্দের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। পাশের গ্রামে শিক্ষিত পুরুত হঠাৎ খরব নিয়ে আসে কলে গোলমালের কারণে গ্রেফতার হয়েছে গোবিন্দ। বিস্তারিত কিছু বলতে পারে না। পরেরদিন মামা-মামীর শাসনকে তোয়াক্কা না করে রেবতী ছুটে যায় পাশের গ্রামের পুরুতের বাড়িতে। পুরুত তাকে বিস্তারিত সংবাদের এনে দিতে সম্মত হয়। এখানেই শেষ করেন মানিক বাবু।
রেবতীর পরিবার এসকল চাপ সহ্য করতে না পেরে তাকে পাঠিয়ে দেয় অন্য গ্রামে মামার বাসায়। প্রায় সমবয়সী মামীর সাথে গড়ে উঠে সখ্যতা। খবরের কাগজের ফলে এ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে রেবতীর খরব। আশাপাশের মানুষ দেখতে আসে তাকে। মামা-মামীর কড়া শাসনের মধ্যে থাকে রেবতী। হঠাৎ বন্যা হানা দেয় গ্রামে। বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির ফলে বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামকে দেয় ভাসিয়ে। গরিব চাষীর অবস্থা করুণ হতে থাকে। অসহায় চাষীর বিবরণ অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন মানিক বাবু।
দুর্যোগপূর্ণ বন্যার মধ্যে রেবতীর খরব নিতে আসে গোবিন্দ। তাদের বিয়েও ঠিক হয়। গোবিন্দ চলে যায় রেবতীর বাবা-ভাইকে খরব দিতে। কিন্তু বিয়ের দিন গোবিন্দের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। পাশের গ্রামে শিক্ষিত পুরুত হঠাৎ খরব নিয়ে আসে কলে গোলমালের কারণে গ্রেফতার হয়েছে গোবিন্দ। বিস্তারিত কিছু বলতে পারে না। পরেরদিন মামা-মামীর শাসনকে তোয়াক্কা না করে রেবতী ছুটে যায় পাশের গ্রামের পুরুতের বাড়িতে। পুরুত তাকে বিস্তারিত সংবাদের এনে দিতে সম্মত হয়। এখানেই শেষ করেন মানিক বাবু।
রেবতী
সভা আর ছড়া গান করে হাসপাতালে ভর্তি গোবিন্দের জন্য টাকা সংগ্রহ করে।
গোবিন্দ কিছুটা সুস্থ হলে রেবতীকে বিয়ে করতে রাজি হয় না। কেননা, বিয়ে করে
তাকে খাওয়ানোর মত কিছু নেই গোবিন্দের কাছে। বন্যার কারণে ফসলের মাঠ শস্য
শূণ্য আর কলের কাজও নেই । রেবতী মেনে নিয় তার সিদ্ধান্ত। কিন্তু রেবতীর
পরিবার তা মেনে নিতে পারে না। অবশেষে পুরুতের সহযোগিতায় বিয়ে হয় তাদের।
গোবিন্দ ভাগ্যোর কাছে হেরে নতুন করে বাঁচায় আশায় আশ্রয় নেয় শহরের কলে।
গ্রাম ছেড়ে চলে যায় রেবতীও। গায়ের চাষীদের অধিকার আদায়ের দায়িত্ব দিয়ে যায়
শিক্ষিত মানুষের উপর।
যার
ফলে অসাধারণ একটা গল্প সাধারণ গ্রাম ছাড়ার গল্পে পরিণত হয়েছে। জানি না
মানিক বাবু এভাবে শেষ করতেন কিনা। নাকি গ্রামের চাষীদের অধিকার আদায়ের
হাতিয়ার হয়ে উঠত রেবতী!

পড়ে ভালো লাগল এবং বইটি পড়ার ইচ্ছা হচ্ছে।
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের সঙ্গে থাকুন।
মুছুন