নীলিমার আয়না
এই তো কয়েকদিন আগে রায়হান যখন নীলিমাকে দিয়াবাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাবে বললো, নীলিমার তখন হাসিতে গড়াগড়ি অবস্থা।
নীলিমা : তুমি যাবে দিয়াবাড়ি ! নীলিমার চোখে একরাশ বিস্ময়।
রায়হান : না, তুমি আর আমি !
নীলিমা : হঠাৎ বলছো তো তাই একটু ভিমড়ি খেয়েছিলাম।
রায়হান : ভিমড়ি খেতে হবে না। পুলিশের চাকুরি করি বলে, আমাকে রোবট ভেবো না।
দিয়া
বাড়িতে ঘুরতে যাবার সেই স্মৃতি আজো নীলিমার মনে গেঁথে আছে। নীলিমার হাত
ধরে কাশবনের ভিতর দিয়ে যেতে যেতে রায়হান সেদিন বলেছিলো, “ নীলিমা, আমি
তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি ।” রায়হানের চোখে যেদিন ভালোবাসার যে গভীরতা
দেখেছিলো নীলিমা গত ছয় মাসের সংসারে তা একটি বারও নজরে পড়েটি।
সেদিন
বুধবার। নারায়ণগঞ্জের লাল দিঘীতে নির্বাচনী এলাকাতে রায়হানের ডিউটি ছিলো।
হঠাৎ করেই একদল অস্ত্রধারীর আগমন। সেই নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে গিয়ে
রায়হানকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এক নিমিষেই নীলিমার সাজানো সংসার ভেঙ্গে টুকরো
টুকরো হয়েছে। বার্ধক্যে পীড়িত গণতন্ত্র তার যৌবনের রাঙা দিনগুলোকে কেড়ে
নিয়েছে। ক্ষমতার দ্বন্ধে নীলিমার ভালোবাসা বলি দিতে হয়েছে।
আজ
আর কোনো কিছুতে সুখ পায়না সে। শরৎ কিংবা বসন্তের রঙ তার মনকে আর রাঙাতে
পারে না। কোলাহল পূর্ণ পৃথিবী এক নিঃস্তব্ধ মৃত্যুপুরী ছাড়া আর কিছুই নয়
তার কাছে।

কোন মন্তব্য নেই
মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।