Header Ads

Header ADS

বৈশাখী

মনির হোসেন পবিত্র: মাঘের হাড় কাঁপানো শীত। এ শীতকে হার মানিয়ে ডাকপিয়ন হলুদ লম্বা খাম হাতে সাইকেলের বেল বাজাচ্ছে বাইরে। খামটি হাতে পেয়ে আনন্দের বন্যায় ভেসে যায় বাসন্তী মালা। খামের সাদা কাগজটি তাকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিল। নিয়োগ পাহাড়ী দূর্গম এলাকার অচেনা এক স্কুলে। পাহাড়ী এলাকার কথা ভেবে মুহূর্তেই আনন্দটা শূন্যে মিলিয়ে যেতে বসেছে। তবু সোনার হরিণটিকে হাতছাড়া করার মত দুঃসাহস হল না বাসন্তী মালার। নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি থেকে তল্পিতল্পাসহ পা বাড়াল বাসন্তী। দিন শেষে পাহাড়ী এক স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে বাসটি চলে গেল । একা একা পথ চলতে হবে ভেবেই মনটা কেমন চুপসে গেল । তবে পাহাড়ের দিকে পা বাড়াল বুদ্ধিমান বাসন্তী মালা। সঙ্গী সাথীহীন বাসন্তী যখন পথে পা বাড়াল পথের পাশে বসে থাকা ন্যড়ে কুকুরটা ঘেউ ঘেউ শব্দে ফিরিয়ে নিল। ফিরে তাকাতেই লেজ নেড়ে নির্জন বন্ধুত্ব করতে চাইলে মন্দ হয় না। ভাবলো বাসন্তী মালা এই নির্জন পথে অন্তত একটি প্রাণীর সঙ্গ পাওয়া যাবে। কিরে আমার বন্ধু হবি? প্রশ্ন করতেই ঘেউ শব্দে লেজ নেড়ে সম্মতি জানালো। তবে আামাদেও পরিচয় হওয়া প্রয়োজন। আমি বাসন্তী মালা এবং তুই বৈশাখী। 

একদিন বাসন্তীমালা বৈশাখীকে নিয়ে পাহাড়ে বেড়াতে যায়। যখন তারা অপলক দৃষ্টিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য সুধা দেখতে লাগল, তখন এক নেকড়ে বাঘ তাদের দিকে আসছে। তখনই বৈশাখী ঘেউ ঘেউ শব্দে নেকড়েটাকে তাড়াচ্ছে এবং ঘেউ শব্দে বাসন্তীকে বলছে ভয় পেয়ো না। 

কিছুতেই যখন নেকড়েটি তাদের পথ ছেড়ে যাচ্ছে না, নিরুপায় বৈশাখী নেকড়েটির উপর ঝাপিয়ে পড়ল। বৈশাখী তার সর্ব শক্তি দিয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। বহু মরণ যুদ্ধের পর নেকড়েটি চলে গেল বটে কিন্তু ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় পড়ে রইল বৈশাখী । এখন উঠে দাড়াবার সামান্যতম শক্তি তার গায়ে নেই। যুদ্ধে জয়ের আনন্দ ভরা ছল ছল চোখে তাকিয়ে রইল বাসন্তী মালার দিকে। বাসন্তী ছুটে এসে বৈশাখীকে জড়িয়ে ধরল। ততক্ষনে বৈশাখী উপরে চলে গেল।



**শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সাময়িকী "কুঞ্জলতা" তে প্রকাশিত।

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.