ফসলের বন্ধু পোকা: ট্রাইকোগ্রামা
উচ্ছ্বাস পাল: ফসলের ক্ষতিকর কীট দমনে বন্ধুপোকার ব্যবহার নতুন কোন ধারণা নয় । পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে কৃষিবিজ্ঞানীরা এখন জমিতে যথেচ্ছা রাসায়নিক সার প্রয়োগের পরিবর্তে নানান প্রজাতির parasitoid
(যারা অন্য প্রজাতির পোকার ডিমের মাঝে থাকা লার্ভাকে মেরে ফেলে) ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো ক্ষতিকর পোকাদমনের এ কৌশলটি কৃষকদের কাছে তেমন একটা পরিচিত নয়।
“বন্ধুপোকা”দের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সবচে প্রচলিত হল ট্রাইকোগ্রামা, যার বৈজ্ঞানিক নাম Trichogramma sp. এটি Hymenoptera বর্গের অন্তর্ভুক্ত Trichogrammatidae
গোত্রের সদস্য। এদেরকে বলা হয় Endoparasitoid,যারা ডিম পাড়ে অন্য পোকার লার্ভা বা ডিমের ভিতর। এই প্রক্রিয়ার শুরুতে প্রথমে এরা পোষক (host) পোকার ডিম নির্বাচন করে এবং ঐ ডিমের কোরিওন ছিদ্র করে নিজের ডিম প্রবেশ করিয়ে দেয়। একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী ট্রাইকোগ্রামা দিনে ১- ১০ টি পোষক ডিমকে parasitise করতে পারে। পোষক ডিমের ভেতর ট্রাইকোগ্রামা লার্ভা বড় হয় এবং একপর্যায়ে পোষক পোকার লার্ভাকে মেরে ফেলে। পরে পোষক ডিম ভেঙে পূর্ণাঙ্গ ট্রাইকোগ্রামা পোকা বের হয়ে আসে। প্রধানত Lepidoptera বর্গের বিভিন্ন ক্ষতিকর মথ বা ক্যাটারপিলার নিয়ন্ত্রণে ট্রাইকোগ্রামা ব্যবহার করা হয়। তুলা, টমেটো, বিভিন্ন ফুল, ফলের গাছ ইত্যাদির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে মথ বা মথের লার্ভা। এসব ক্ষেত্রে ট্রাইকোগ্রামা ব্যাবহারে সুফল পাওয়া যায়।
বর্তমানে ৩০ টিরও বেশি দেশে বাণিজ্যিকভাবে ট্রাইকোগ্রামা পালন করা হয়। এদের মধ্যে T. pretiosum , T. carverae ইত্যাদির চাহিদা সবচে বেশি। আমাদের দেশেও সীমিত আকারে ট্রাইকোগ্রামা ব্যবহার শুরু হয়েছে। সেফ এগ্রোবায়োটেক, ইস্পাহানি প্রভৃতি কীটনাশক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক ভাবে ট্রাইকোগ্রামা পালন করছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কিছু জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকদের মাঝে ট্রাইকোগ্রামা পোকা সরবরাহ করেছে। সেখানকার কৃষকরা ট্রাইকোগ্রামা প্রয়োগে আশানুরূপ ফল পেয়েছে। তবে আমাদের দেশে ট্রাইকোগ্রামা পালন পদ্ধতি কৃষকদের মাঝে আরো সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে কৃষি বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে।
**শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সাময়িকী "কুঞ্জলতা" তে প্রকাশিত।

কোন মন্তব্য নেই
মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।