সৌমিকের আজ পাঞ্জাবী পড়ে আসার কথা ছিল ,আসেনি। সাদা টিশার্ট গায়ে চলে এসেছে। তাহলে এই বোধ জাগ্রত হয় কিভাবে? এতক্ষণ ঝাড়ি খেয়েছে যে!
কড়াকড়ি লকডাউনের দরুন বেশি রাস্তা পার করা যাবেনা তাই সামনের রাস্তার ছোট্ট লেকপাড় একমাত্র ভরসা।তাতেই স্নিগ্ধা সৌমিকের বেশ জমবে। খুব বেশি কিছু চায়নি, শুধু একটু শুভ্রতা মোড়ানো এক প্যাকেট বাতাস।
রিকশার গতি খালি রাস্তায় মসৃণতা পেয়েছে,একই সাথে সৌমিকের প্রতি স্নিগ্ধার মনে অভিমানের অনু ক্রমশ দানা বাঁধছে।লেকপাড়ে পৌঁছোলেই দেরি না করে ফিরে আসার কথা ভাবছে এবং সে অনুযায়ী কথার গুটি সাজাচ্ছে আপাতত।
রিকশা আজ কেন যে তাড়াতাড়ি পৌঁছিয়েছে, ভালো লাগল না সৌমিকের।আরেকটু সময় নাহয় থেকে যেতো স্নিগ্ধ স্নিগ্ধার পাশে।
লেকপাড়ে পৌঁছোতেই অভিমানী স্নিগ্ধা হনহনিয়ে নামছিল, সে পারল কোথায়?রিকশার গায়ের অদ্ভুত রংয়ের খেলা আর নতুনত্বে চোখ আটকে গেল তার।
সে রিকশাচালক ভাইয়ের দিকে তাকাতেই ফোকলা গালে হেসে বললেন-
"আফা এডা সোমিক ভাইয়ের কাম।"
এই মুহুর্তে স্নিগ্ধার আরও দুজোড়া চোখ থাকলে মন্দ নেহাত হতো না। একসাথে সৌমিক, নীল রিকশা আর রিকশাচালক ভাইকে দেখতে পেত। তবে তার অন্তরদৃষ্টি তাকে সৌমিকের দিকে তাকাতে বাধ্য করে।
যদিওবা তা স্নিগ্ধার জন্য ১ম নববর্ষের সারপ্রাইজ ছিল। যাই হোক! রিকশাচালক সামাদ ভাই সৌমিকের কাজকে এক নিমিষে সহজ করে দিল। সামাদ ভাইয়ের অনুভুতি আটকে রাখার মত জাল না কিনে সৌমিক ভালোই করেছে বলা যায়।
সৌমিকের দিকে তাকাতেই হ্যাঁসূচক এক মুখাবয়ব ধরা খেলে স্নিগ্ধার মনে।
সৌমিক চারুকলার ছাত্র। তবে তার পেইন্টিং যে রিকশাশিল্পে ধরা দিবে সে ভাবতে স্নিগ্ধার মাথা হাপিয়ে উঠছে,তবে তা সাময়িক চিন্তা।
রিকশার গা আজ আকাশী রং এ ভাসছে। মাঝেমাঝে স্নিগ্ধ শিউলিফুলের মালা,এ যেন শিউলিতলায় এসেছে স্নিগ্ধা। এক ঘণ্টা সে এ শিল্পকে উপভোগ করল, তার কাছে সময় কম বলে মনে হচ্ছে।
এ যেন সেই পঞ্চাশ দশকের রিকশা পেইন্টিং বা রিকশাচিত্র। তবে তা পেতে পিছনে যেতে হচ্ছে না, একদম নব্য ভাবনায় বর্ণিল ফর্ম।
লোকাল মোটিভ আর কালারটোনের স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। মনস্তাত্ত্বিক ভিন্নরুপ অভিব্যক্তি। এ শিল্প যে সৌমিকের রিসার্চ বা ডকুমেন্টেশন হতে পারে তা স্নিগ্ধার ধারণাতীত।
এত কিছুর পর অবাক স্নিগ্ধার একটাই প্রশ্নঃ
"সৌমিক! রিকশা পেলে কোথায়?"
অন্যদিকে স্নিগ্ধার আলোকপাতের নতুন আবিষ্কারঃ সৌমিকের গায়ের টিশার্টে রিকশায় শিল্পায়ন করতে যে রং লেগেছে, তা বেশ,ভালোই দেখাচ্ছে সাদানীলের সিনেমেটিক প্রভাব।খুব সুন্দর!
প্রতিভাবান সৌমিকের পাশে কেমন যেন বেমানান মনে হচ্ছে স্নিগ্ধার। তবে অভিমান গলে যে জল হয়েছে বলা হয়নি সৌমিক কে। না বলাই থাক এখানেই তো গহীন রহস্যে নারী, যদিও তাকে ভেদ করার কিছু পার্ট সৌমিক অর্জন করেছে এই নমাসে।
রিকশার মাঝে ছোট্ট করে লিখা স্নিগ্ধা +সৌমিক(শুভ নববর্ষ -১৪২৮)[ বাংলা সংস্কৃতি বেচে থাকুক] কাজল চোখে লেগে থাকল নীল শাড়িপরিহিতার।
লেকপাড়ে রিকশাশিল্পের সৌন্দর্য আবিষ্কার করতে করতে বিকেল গড়িয়ে কখন যে মাগরিবের আজান পরল। স্নিগ্ধার ব্যাগে বোতলের পানি আর কয়েকটি খেজুরে প্রথম রোজা আলহামদুলিল্লাহ সম্পাদন হয়ে গেল।
কোন মন্তব্য নেই
মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।