Header Ads

Header ADS

পাঠ প্রতিক্রিয়া: মাঝে মাঝে তব


 পাঠ প্রতিক্রিয়া: 

গ্রন্থের নাম: মাঝে মাঝে তব

গ্রন্থের ধরণ: উপন্যাস

লেখিকা: ওয়াসিকা নুযহাত

প্রকাশন: বাংলার প্রকাশন


"মাঝে মাঝে তব" উপন্যাসকে একটি  মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস বলা যায়। দুটি মনের দ্বন্ধ, তাদের চাওয়া-পাওয়া, সামাজিক বাঁধা এ সবকিছু ছাপিয়ে উপন্যাসটিতে প্রাধান্য পেয়েছে নিগূঢ় ভালোবাসা।


উপন্যাসের প্রথম কয়েক পাতা পড়ার পর এর কাহিনীর শেষ পরিণয় কি হবে তার একটি ধারণা করি। আমার কাছে সেই উপন্যাস সার্থক, যেটা আমার ধারণার সাথে মিলে না। আর যদি আমার ধারণার সাথে মিলে যায়, তাহলে তো বলতেই হবে এতে কোনো চমক নেই। অর্থাৎ পাঠক ধরেই নিতে পারছে এর শেষ কি হবে! এই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘মাঝে মাঝে তব’ উপন্যাসকে সম্পূর্ণভাবে সার্থক বলতে পারছি না। উপন্যাসটি শুরু করার পর যেভাবে শেষ হবে ভেবেছি সেইভাবেই শেষ হয়েছে। তারপরও প্রতিটি ঘটনায় ভিন্নতা ছিল, যেটা কখনোই আগে থেকে অনুমান করা যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে ১০ এর মধ্যে এর রেটিং দিব ৭.৫। 

ক্যান্সারে আক্রান্ত বিবাহিত মেয়ে ভাগ্যক্রমে প্রেমে পড়ে  দূর সর্ম্পকের বুয়েটের শিক্ষার্থী ভাগনের সাথে। তাদের এই অসম প্রেম সৃষ্টি হয় বিন্দু বিন্দু করে। অন্য ভালোবাসার মতই এই বিন্দু যে কখন সিন্ধু হয় তা বুঝতে পারে না কেউ। উপন্যাসের প্রতিটি বাকে বাকে নতুন করে মোড় নিয়েছে। কখনো রাস্তার ডানে, কখনোবা রাস্তার বামে। প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, ভালোলাগা, ভালোবাসার শেষ পরিনিতি জানতে হলে পড়তে হবে ‘মাঝে মাঝে তব’ উপন্যাস। আমার মনে হয় এ উপন্যাস পড়ে আপনার সময় নষ্ট হবে না। বরং চমৎকার একটা সময় পার করবেন। জীবনকে অন্যভাবে চিন্তা করায় সুযোগ পাবেন। 

গ্রামের সহজ সরল মেধাবী ছেলে সুযোগ পায় বুয়েটে পড়ার। হলে জায়গা না পাওয়ার তাকে থাকতে হয় দূর সর্ম্পকের মামার বাসায়। সাজানো গোছানো বিশাল বাড়ি বেশ ভালো লাগে নায়কের। এ বাড়িতে সমবয়সী এক মেয়ের সন্ধান মিলে। মামার এক মাত্র মেয়ে বিদেশ থাকে। মামীও মারা গিয়েছে অনেক আগে। তাহলে কে এই মেয়ে? চিন্তার জগতে ছেদ ঘটে। পরে জানতে পারে মামার দ্বিতীয় স্ত্রী এই সুশ্রী মেয়ে। কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারে না নায়ক। মামার বাড়ি ছেড়ে মেসে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে একসময় জানতে পারে মামী মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। অল্প কিছুদিন পরই তাকে জগতের সকল মায়া ছাড়তে হবে। বাধ্য হয়েই মামা বিয়ে করেন। কিন্তু নায়িকার সাথে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হয়নি এখনো।  ধীরে ধীরে মিশতে মিশতে তাদের ভালো বন্ধুত্ব হয়। সিনেমা দেখা, ছাদে গল্প করা, একে অপরের কাছে আসা- এভাবেই এগিয়ে যায়  উপন্যাস। হঠাৎ মামা একদিন সব জেনে যায়। তার ভাগনের কাছে হেরে যাওয়া মেনে নিতে পারে না। তার স্ত্রীর প্রকৃত স্বাামী হতে চায়। শুধু হয় মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্ধ। এই দ্বন্ধে কে হারে কিংবা কে জিতে জানতে হলে পড়তে হবে এই উপন্যাসটি।  


লেখক: মাহমুদুল হাসান সোহাগ 


কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

Blogger দ্বারা পরিচালিত.